একদিন হযরত ওমর (রা.)

একদিন হযরত ওমর (রা.)…

কায়েস ইবনে আবি হাযেম (রহ.) বলেন, একদিন হযরত ওমর (রা.) লোকদেরকে বয়ান করিলেন এবং বয়ানের মধ্যে বলিলেন, জান্নাতে আদনের মধ্যে একটি মহল আছে যাহার পাঁচশত দরজা রহিয়াছে। উহার প্রত্যেক দরজায় পাঁচ হাজার করিয়া ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুর রহিয়াছে। উহাতে একমাত্র নবী প্রবেশ করিবেন। অত:পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কবরের দিকে চাহিয়া বলিলেন, হে কবরবাসী, আপনার জন্য মোবারক হউক। তারপর বলিলেন, অথবা উহাতে সিদ্দীক প্রবেশ করিবেন। অত:পর হযরত আবু বকর (রা.) এর কবরের দিকে চাহিয়া বলিলেন, হে আবু বকর, আপনার জন্য মোবারক হউক। তারপর বলিলেন, অথবা উহাতে শহীদ প্রবেশ করিবে। তারপর নিজেকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, হে ওমর, তোমার জন্য শাহাদাত কোথা হইতে আসিবে? তারপর বলিলেন, যে আল্লাহ আমাকে মক্কা হইতে বাহির করিয়া মদীনায় হিজরতের সৌভাগ্য দান করিয়াছেন তিনি এই কুদরত রাখেন যে, শাহাদাতকে টানিয়া আমার নিকট লইয়া আসিবেন।
অপর এক রেওয়ায়াতে আছে, হযরত ইবনে মাসউদ (রা.) বলিয়াছেন, সুতরাং তাহাই হইল, আল্লাহ তায়ালা তাহার নিকৃষ্ট মাখলুক অর্থাৎ হযরত মুগীরা ইবনে শো’বা (রা.) এর গোলামের হাতে তাহাকে শাহাদাত নসীব করিলেন। (তাবারনী)
আসলাম (রহ.) বলেন, হযরত ওমর (রা.) এই দোয়া করিতেন, আয় আল্লাহ! আমাকে আপনার রাস্তায় শাহাদাত ও আপনার রাসূলের শহরে মৃত্যু নসীব করুন।
হযরত হাফসা (রা.) বলেন, আমি হযরত ওমর (রা.) কে এই দোয়া করিতে শুনিয়াছি, আয় আল্লাহ! আমাকে আপনার রাস্তায় শাহাদাত ও আপনার নবীর শহরে মৃত্যু নসীব করুন। হযরত হাফসা (রা.) বলেন, আমি বলিলাম, এই উভয় জিনিসের সমন্বয় কিভাবে হইবে? তিনি বলিলেন, আল্লাহ তায়ালা চাহিলে এরুপ করিতে পারেন। (ফাতহুল বারী)